ইতালি ভিসা খরচ 2023 । বাংলাদেশ থেকে ইতালি যাওয়ার উপায় (আপডেট)

ইতালি ভিসা খরচ 2023 (ইতালি যেতে কত টাকা লাগে)– ইতালি একটি সুন্দর দেশ যা প্রতি বছর লক্ষ লক্ষ মানুষ এই দেশে কোনো না কোনো উদ্দেশ্যে ভ্রমণ করে থাকে। এটি কাজ, অধ্যয়ন বা অবসরের জন্যই হোক না কেন, ইতালিতে সবার জন্য কিছু না কিছু আছে।

যাইহোক, আপনি ইতালিতে আপনার ভ্রমণের পরিকল্পনা করার আগে, আপনাকে ভিসার প্রয়োজনীয়তা এবং ইতালি ভিসা খরচ বা ইতালি যেতে কত টাকা লাগে তা আগে থেকে জানা থাকা লাগবে। আজকে আমরা আপনাকে জানবো যে ইতালির ভিসা খরচ 2023 মানে ইতালি যেতে কত টাকা লাগে।

যেমন আরো কিছু প্রশ্ন বাংলাদেশ থেকে ইতালি যাওয়ার উপায়, ইতালির ভিসা আবেদন ফি কত টাকা ২০২৩ সালে এবং আপনার যা জানা দরকার তা সম্পর্কে সকল কিছু জানতে।

ইতালি ভিসা আবেদন করার নিয়ম 2023

বাংলাদেশ থেকে ইতালির ভিসা পাওয়ার নিয়ম সোজা। আপনাকে প্রথমে বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক নিবন্ধিত রেকর্ডিং এজেন্সির মাধ্যমে ইতালি ভিসার জন্য আবেদন করতে হবে।

অথবা, আপনি যদি আনুষ্ঠানিকভাবে ইতালি যেতে চান, আপনি BMET বা Bucell এর মাধ্যমে ইতালীয় ভিসার জন্য আবেদন করতে পারেন। বর্তমানে ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে ইতালির ভিসা কার্যক্রম শুরু হয়েছে। এই বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে আপনি বাংলাদেশ থেকে ইতালির ভিসার জন্য আবেদন করতে পারবেন।

তবে বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী বিভিন্ন দেশ থেকে ৪৮ হাজার কর্মী নিয়োগ দেওয়া হবে। এমতাবস্থায় বাংলাদেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এ তথ্য জানিয়েছে, বাংলাদেশ থেকে আগের চেয়ে বেশি কর্মী ইতালিতে যাবে।

যাইহোক, আগের তুলনায় কিছু নতুন নিয়ম চালু করা হয়েছে, এই ক্ষেত্রে, কর্মীদের দক্ষতা অর্জন করতে হবে, এবং তারপর তারা ইতালীয় ভিসা সংগ্রহ করতে পারবেন। তবে আপনারা যদি কেউ কর্মী হিসেবে যেতে না, তারা তাহলে নিচে দেখতে পারেন।

ইতালি ভিসার ধরণগুলো জেনে নিন আগে

আপনার ভ্রমণের উদ্দেশ্যের উপর নির্ভর করে বিভিন্ন ধরণের ইতালি ভিসা পাওয়া যায়। নিচে সকল ধরণের ভিসার ধরণ বলা হলো-

১) ইতালি ফ্যামিলি ভিসা

আপনি যদি আপনার পরিবারের সদস্যদের সাথে দেখা করতে ইতালি যেতে চান যারা ইতিমধ্যে সেখানে বসবাস করছেন, তাহলে আপনি ইতালি ফ্যামিলি ভিসার জন্য আবেদন করতে পারেন। এই ভিসা আপনাকে 90 দিন পর্যন্ত ইতালিতে থাকার অনুমতি দিবে।

২) ইতালি স্কিলড ওয়ার্কার ভিসা

আপনি যদি একজন দক্ষ কর্মী হন এবং ইতালিতে কাজ করতে চান তবে আপনি ইতালির দক্ষ কর্মী ভিসার জন্য আবেদন করতে পারেন। একে ইতালি ওয়ার্ক ভিসা ফর বাংলাদেশী ভিসাও বলা হয়। তবে যাই হোক না কেন এই ভিসা সিজনাল এবং নন সিজনাল ভিসা উভয় কাজের জন্য উপলব্ধ।

৩) ইতালি স্টুডেন্ট ভিসা

আপনি যদি ইতালিতে পড়ালেখা বা উচ্চশিক্ষার জন্য যেতে চান, তবে আপনি ইতালি স্টুডেন্ট ভিসার জন্য আবেদন করতে পারেন। এই ভিসা স্বল্পমেয়াদী এবং দীর্ঘমেয়াদী উভয় কোর্সের জন্য উপলব্ধ রয়েছে।

৪) ইতালি ট্যুরিস্ট ভিসা

আপনি যদি অবসর বা দর্শনীয় স্থান ভ্রমণের জন্য ইতালিতে যেতে চান তবে আপনি ইতালির ট্যুরিস্ট ভিসার জন্য আবেদন করতে পারেন। এই ভিসা আপনাকে 90 দিন পর্যন্ত ইতালিতে থাকার অনুমতি দেয়।

৫) ইতালি মেডিকেল ভিসা

আপনার যদি চিকিৎসার জন্য ইতালি ভ্রমণের প্রয়োজন হয়, আপনি একটি ইতালীয় মেডিকেল ভিসার জন্য আবেদন করতে পারেন। এই ভিসা আপনাকে 90 দিন পর্যন্ত ইতালিতে থাকার অনুমতি দেয়।

৬) ইতালি এগ্রিকালচার ভিসা

কৃষি কাজের উদ্দেশ্যে এই ইতালীয় এগ্রিকালচার ভিসা সরকার দিয়ে থাকে। এর জন্য আপনাকে বাংলাদেশে ইতালীয় দূতাবাসে যোগাযোগ করতে হবে।

৭) ইতালি চিকিৎসা ভিসা ২০২৩

অনেকে চিকিৎসার উদ্দেশ্য ইতালই যেতে চায়। তাদের জন্য এই ভিসাটি। তবে এর জন্য আপনার চিকিৎসার ডকুমেন্টসহ যাবতীয় সকল ইনফরমেশান এর দরকার হবে।

ইতালি সিজনাল ভিসা

ইতালির সিজনাল ভিসা মূলত ঋতুভিত্তিক। এই ক্ষেত্রে, একটি ইতালিয়ান ভিসা ছয় মাস থেকে দুই বছর বা এক বছরের জন্য বৈধ হয়ে থাকে। এই ভিসা দিয়ে আপনি ইতালিতে কত দিন কাজ করতে পারবেন  তা এবং কৃষি কাজ সহ সকল মৌসুমী কাজকে মূলত ইতালি সিজনাল ভিসা বলা হয়ে থাকে।

ইতালি যাওয়ার সবচেয়ে সহজ উপায় হলো প্রথমে একটি মৌসুমী বা অমৌসুমী ভিসা পাওয়া। এই ক্ষেত্রে, আপনি বাংলাদেশ সরকার নিবন্ধিত রিক্রুটিং এজেন্সিগুলির মাধ্যমে মৌসুমী এবং অমৌসুমী ইতালি ভিসা সংগ্রহ করতে পারবেন।

ইতালি নন সিজনাল ভিসা

ইতালির নন সিজনাল ভিসা মূলত ২ বছর থেকে ৪ বছরের কাজের জন্য যে ভিসা পাওয়া যায় তাকেই মূলত নন সিজনাল ভিসা বুঝানো হয়ে থাকে। ইতালির নন সিজনাল ভিসা ভিসা দিয়ে, আপনি দীর্ঘমেয়াদী কাজের জন্য ইতালিতে থাকতে পারেন।

এসব কাজ নির্ধারিত কোম্পানির অধীনে করা হয়। ভিসার মেয়াদ শেষ হলেও পরবর্তীতে এটি আবার করার সুযোগ রয়েছে।

ইতালি ভিসা খরচ ২০২৩

ইতালি ভিসা খরচ নির্ভর করে আপনি যে ধরনের ভিসার জন্য আবেদন করতে চান তার উপর। ইতালিতে সিজনাল ভিসার খরচ প্রায় সাড়ে তিন লাখ থেকে পাঁচ লাখ টাকা। অন্যদিকে নন সিজনাল ভিসার খরচ ৮ লাখ থেকে ১২ লাখ টাকা।

আপনি যদি ২০২৩ সালে একটি সিজনাল অথবা নন সিজনাল ভিসা নিয়ে ইতালি যেতে চান, তবে আপনাকে অবশ্যই নিশ্চিত করতে হবে যে আপনি করোনার ভ্যাকসিন নিয়েছেন এবং একটি নির্ধারিত ভিসার মাধ্যমেও আবেদন করতে হবে। তাহলে আশাকরি বুঝে গিয়েছেন ইতালির ভিসা আবেদন ফি কত টাকা ২০২৩ সালে কত টাকা। 

ইতালি ভিসা আবেদন ফরম 2023

আপনি শুধুমাত্র সরকারী নিবন্ধিত সংস্থার মাধ্যমে 2023 সালে একটি ইতালি ভিসার জন্য আবেদন করতে পারেন। শেষ ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে নন সিজনাল ভিসার জন্য প্রকাশিত বিজ্ঞপ্তিটি শুধুমাত্র সরকারি নিবন্ধিত সংস্থার মাধ্যমে আবেদন করা হয়েছিল।

পরে যখন আপডেট আসবে সরকার থেকে, আমরা এখানে সেই আপডেটটি দিয়ে দিবো। সুতরাং, অবশ্যই, অন্যান্য এজেন্সির মাধ্যমে আবেদন করার ক্ষেত্রে, আপনাকে সাবধানে এজেন্সিটি সম্পর্কে ভালোভাবে যেনে নেয়া উচিত এবং তারপরে ইতালি ভিসার জন্য আবেদন করা উচিত।

ইতালি ভিসা 2023 কবে খুলবে?

ইতালির জন্য সমস্ত ভিসা 2023 সালে সম্পূর্ণরূপে চালু হবে। যে কেউ ইতালি সিজনাল ভিসা এবং ইতালি নন-সিজনাল ভিসা নিয়ে ইতালিতে যেতে পারেন। অলরেডি ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে একটি আবেদন শুরু হয়েছিল, যার মাধ্যমে নন সিজনাল ভিসায় প্রায় ৪৮ হাজার শ্রমিক ইতালি গিয়েছে।

এছাড়া কর্মচারীরাও বছরের বিভিন্ন সময়ে মৌসুমী ভিসা নিয়ে ইতালি যেতে পারেন।

আমাদের শেষ কথা

যদি আপনি সকল নিয়ম মেনে নিয়ে আবেদন করেন, তবে একটি ইতালিয়ান ভিসা পাওয়া জটিল নয়। ইতালি বিভিন্ন উদ্দেশ্যে বিভিন্ন ধরনের ভিসা অফার করে এবং ভিসার খরচ নির্ভর করে আপনি যে ধরনের ভিসার জন্য আবেদন করতে চান তার উপর। উপরে তো জেনেছেনই যে ইতালির ভিসা আবেদন ফি কত টাকা ২০২৩ সালে।

তো আশাকরি ইতালি ভিসা খরচ 2023, ইতালি যেতে কত টাকা লাগে তা নিয়ে সকল কিছু জেনে গিয়েছেন। এরকম আরো দারুন ইনফো রিলেটেড পোস্ট পেতে আমাদের সাইটে নিয়মিত ভিজিট করুন। কোনো রকম প্রশ্ন থাকলে ইতালি ভিসা নিয়ে, তাহলে নিচে আমাদের জানাতে পারবেন। 

Leave a Comment